১৪ মার্চ ২০২৬ | ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২
বাংলাদেশ
১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন তারেক রহমান, বিমানবন্দরে রাজকীয় অভ্যর্থনা, ৩০০ ফিটে জনসমুদ্র

image

এক-এগারোর সরকারের নির্যাতন, পরবর্তী সময়ে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র—সব বাধা পেরিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর পর অবশেষে দেশের মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সঙ্গে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরেছেন তিনি।

বিমানবন্দরে তারেক রহমান ও তার পরিবারকে বরণ করতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয় বুলেটপ্রুফ গাড়ি। সেখান থেকেই তিনি ৩০০ ফিটে আয়োজিত বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যেখানে একমাত্র বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এর আগে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত আটটার কিছু পরে লন্ডনের বাসা থেকে রওনা হয়ে সোয়া ১০টার দিকে হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান ও তার পরিবার। রাত সোয়া ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে তারা ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

ফ্লাইটটি প্রথমে দুবাইতে যাত্রাবিরতি করে। পরে সেখান থেকে উড়াল দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যাত্রী নামিয়ে ও জ্বালানি গ্রহণ শেষে তৃতীয় দফায় উড়াল দিয়ে ঢাকায় পৌঁছায়।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংবর্ধনা শেষে তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন।

২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাগারে তারেক রহমানের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর সব মামলায় জামিন পেয়ে ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তিনি। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে আর দেশে ফিরতে পারেননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর তার দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরলেন তিনি।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। দলটির নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, তার নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটবে এবং ভবিষ্যতে তিনিই হতে পারেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
















অনলাইন ডেস্ক

ভিডিও
Comments:
Sponsered Ad
Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement

loading