অনিয়মিত অভিবাসন ও অবৈধভাবে কাজ করার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিযান চালিয়েছে ব্রিটিশ হোম অফিস। লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশজুড়ে হাজার হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক অনিয়মিত অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
ব্রিটিশ হোম অফিস জানিয়েছে, লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইমিগ্রেশন অভিযান বেড়েছে ৭৭ শতাংশ এবং অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার বেড়েছে ৮৩ শতাংশ।
গত ১৮ মাসে যুক্তরাজ্যজুড়ে সন্দেহভাজন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১৭ হাজার ৪০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১২ হাজার ৩০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল নেইল বার, কার ওয়াশ, সেলুন, নির্মাণস্থল ও টেকঅ্যাওয়ে রেস্তোরাঁ—যেসব খাতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
হোম অফিসের দাবি, এসব অবৈধ ব্যবসা সৎ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অন্যায্য প্রতিযোগিতা তৈরি করছে এবং মানব শোষণের মাধ্যমে কালো অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম জোরদারে অতিরিক্ত ৫০ লাখ পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও মানব পাচারকারী চক্র শনাক্তে।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডেও অভিযান বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ২০২৫ সালে সেখানে ১৮৭টি অভিযানে ২৩৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় গ্রেপ্তার বৃদ্ধির হার ১৬৯ শতাংশ।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সেক্রেটারি হিলারি বেন বলেন,
“অবৈধভাবে কাজ করানো সৎ ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং অপরাধী চক্রকে শক্তিশালী করছে। আইন ভাঙলে কোনো ছাড় নেই।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান,
“আমাদের সমাজে অবৈধভাবে কাজ করার কোনো জায়গা নেই। কালো অর্থনীতিতে জড়িত অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে রেকর্ড মাত্রায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
হোম অফিস জানায়, গত এক বছরে ৫০ হাজার অনিয়মিত অভিবাসীকে অপসারণ ও প্রত্যাবাসন করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।
অভিযানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট টিমে বডি-ওন ভিডিও ক্যামেরা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন আইনের আওতায় গিগ ইকোনমি ও অস্থায়ী কর্মীদের কাজের অধিকার যাচাই বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
সরকারের মতে, অবৈধভাবে কাজের সুযোগ বন্ধ করতে পারলেই মানব পাচারকারী চক্র দুর্বল হবে এবং বিপজ্জনক পথে অভিবাসন নিরুৎসাহিত হবে—এটাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: